বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ওমানের উপকূলের কাছাকাছি পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে ওমানের নৌবাহিনীর অভিযানে জাহাজে থাকা ২৫ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রিটি’ নামের ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলসংলগ্ন এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার মুখে পড়ে। তবে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে হামলাটি চালানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওমানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা কিংবা জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, রিটি একটি অপরিশোধিত তেল পরিবহনকারী ট্যাংকার।
এদিকে, হামলার জন্য ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দায়ী করা হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নিয়ে পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যাত্রার বিষয়ে সমন্বয় করার নির্দেশনাও দিয়েছে তারা।
আইআরজিসির দাবি, রিটি ট্যাংকারটি নিজস্ব নেভিগেশন ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় অনুমোদনহীন পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রধান নৌপথগুলোতে ইরানের পুঁতে রাখা সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করেছে মার্কিন বাহিনী। নৌপথ সচল ও নিরাপদ রাখতে সেখানে তাদের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
কুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে দেড় বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অস্থিরতা বেড়েছে। একের পর এক হামলা, নৌপথ ব্যবহারে বিধিনিষেধ এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুট এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস