দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার ও বিরোধী দল জনগণের আকাঙ্ক্ষা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। জাতীয় দায়িত্ব পালনে দুই পক্ষই ব্যর্থ হলে এর নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির অনৈক্য ও বাংলাদেশের ক্ষতি’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছে, সরকারকে সেটি সবসময় মনে রাখতে হবে। যে আন্দোলন ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের এই নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশ আবার পথ হারিয়ে না ফেলে—সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, সরকার ও বিরোধী দল- উভয় পক্ষেরই জাতীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সামনে কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করতে পারে।
সেমিনারে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ভিডিও ও ফুটেজ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শফিকুল আলম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ফুটেজ সংরক্ষণ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। আন্দোলনে অস্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করতেও এসব ফুটেজ কাজে লাগতে পারে। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, অতীতেও দেশে দুর্নীতির সমস্যা ছিল এবং এখনও তা বিদ্যমান। একই সঙ্গে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভেতরে যথাযথভাবে ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে বক্তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী বাস্তবতা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে অনৈক্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সদ্য সংবাদ/এসকে