বিশ্ববরেণ্য নাট্যকার, শেকড়সন্ধানী নাট্যতাত্ত্বিক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।
আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নাটকের গান ও নৃত্য, স্মরণ শোভাযাত্রা, সেমিনার এবং নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে বরেণ্য এই নাট্যকারকে স্মরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় সেলিম আল দীনের নাটকের গান ও নৃত্য নিয়ে ‘দেহ তোমার অগাধ জলে করছে সন্তরণ’ শীর্ষক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এই পর্বে অংশ নেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় একটি স্মরণ শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসে অবস্থিত নাট্যাচার্যের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলাভবনের দোতলায় অবস্থিত সেট ল্যাবে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ‘কথানাট্যের কাহিনি বিন্যাসে দর্শক সম্ভাষণের ব্যবহার কৌশল’ শীর্ষক এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. আনন জামান। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হামীম কামরুল হক। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন।
দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে। সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের ল্যাব-৩ এ দর্শনীর বিনিময়ে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘জহরনামা’। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দেন আনন জামান এবং প্রযোজনা করে জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ।
এই আয়োজন সম্পর্কে জন্মজয়ন্তী উদযাপন পর্ষদ ২০২৬-এর আহ্বায়ক মহিবুর রৌফ বলেন, “নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭৭তম জয়ন্তী আমাদের জন্য শুধু একজন মহান নাট্যস্রষ্টাকে স্মরণ করার আয়োজন নয়; এটি বাংলা নাটকের নিজস্ব শিকড়, লোকঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়কে নতুন করে অনুধাবনের একটি সুযোগ। তাঁর সৃষ্টিশীলতা আমাদের মাটি, মানুষ ও ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করে নিজস্ব নাট্যভাষা নির্মাণের পথ দেখিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তাঁর নাট্যদর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের জন্য আজও সমান প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণার উৎস। আমরা প্রত্যাশা করি, এই আয়োজন সেলিম আল দীনের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের বহুমাত্রিক তাৎপর্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং তাঁর অসমাপ্ত নাট্যযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা জোগাবে।
সদ্য সংবাদ/এসআর