সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি বলেন, বাবা সাদেক হোসেন খোকার পরিচয়ের সুবাদে ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন ইশরাক। গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে তাঁর মাদকবিরোধী অভিযানকেও অনভিজ্ঞতাপ্রসূত ও ‘খামখেয়ালি’ পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন নিলোফার চৌধুরী মনি।
গেন্ডারিয়ায় সাম্প্রতিক অভিযান নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্স করা অস্ত্র সঙ্গে রাখা আইনসম্মত হলেও একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এ ধরনের অভিযান চালানো সমীচীন নয়।
মনির ভাষ্য, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো কোনো মন্ত্রীর দায়িত্ব হতে পারে না। ইশরাকের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দুই ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বাবার পরিচয়ে রাজনীতিতে আসার কারণে তাঁর অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেত্রী।
ইশরাক কোনো কুচক্রী মহল কিংবা কথিত ‘বুদ্ধিদাতাদের’ প্ররোচনায় এমন ‘ফিল্মি স্টাইলের’ পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মনি। তাঁর মতে, মাদকসেবীদের পেছনে অস্ত্র উঁচিয়ে সময় ব্যয় না করে মাদক কারবারের মূল হোতা ও সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানো প্রয়োজন ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পদত্যাগের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে মনি বলেন, পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ইশরাককে ঘিরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকার সন্তান হিসেবে ইশরাক অত্যন্ত পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। তাঁর মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল সিটি করপোরেশন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহানুভূতিশীল অবস্থানকে ‘মাছের মায়ের পুত্রশোক’ বলে মন্তব্য করে মনি দাবি করেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা এবং আগামী নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ইশরাককে পরিকল্পিতভাবে উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এর মাধ্যমে তাঁকে বর্তমান পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, মাদক বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। তৃণমূল থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে মাদকের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও আমলার নেপথ্য সহযোগিতার কারণে সদিচ্ছা থাকলেও মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়ছে।
সদ্য সংবাদ/এআর