পূর্বের তিক্ততার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না ভারত: পঙ্কজ শরণ

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩১
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। তিনি বলেছেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কারণে সম্পর্ক তিক্ত ও স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না ভারত।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লির সুষমা স্বরাজ ভবন–এ সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বর্তমানে তিনি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাটস্ট্র্যাট–এর কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনুষ্ঠানে ন্যাটস্ট্র্যাটের উপদেষ্টা শান্তনু মুখার্জি–ও বক্তব্য দেন।

পঙ্কজ শরণ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ে। তার ভাষায়, ওই সময় দুই দেশের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ের পরপরই তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোনো সময় নষ্ট করেননি। ফোনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয় এবং বিএনপিও তার জবাব দেয়।

২০০১-২০০৬ সময়কালের প্রসঙ্গ টেনে পঙ্কজ শরণ বলেন, সে সময় ভারত মনে করত বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে উত্তর-পূর্ব ভারতে সশস্ত্র তৎপরতা চালানো হচ্ছিল। বাংলাদেশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করায় দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত অচলাবস্থায় পড়ে যায়।

তার ভাষায়, তখন আলোচনার পরিবেশ ছিল না। ভারত অভিযোগ করত, বাংলাদেশ তা প্রত্যাখ্যান করত। এর ফলে দুই দেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগও থমকে গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, সে সময় ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে—এমন ধারণাও তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থনের অভিযোগও ছিল। নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির এই মিশ্র প্রভাব সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পঙ্কজ শরণ বলেন, বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন সরকার কীভাবে চীন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করবে এবং সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান কী হবে। ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ২০০১-২০০৬ সময়কালের উদ্বেগগুলো ভুল ছিল না। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ–এর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়া সরকারগুলোর সঙ্গেও বর্তমানে ভারতের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে তিনি অতিরঞ্জিত ও অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বিশ্বের সব দেশেরই গোয়েন্দা কার্যক্রম রয়েছে এবং এ ধরনের প্রচারণা ভারতবিরোধী গোষ্ঠীর স্বার্থে ছড়ানো হতে পারে।

বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী–কে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন পঙ্কজ শরণ। তিনি বলেন, দীনেশ ত্রিবেদী অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও সম্মানিত ব্যক্তি এবং বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে।

আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এসব রাজ্যে বিজেপির জয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন পর কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার গঠনের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি।

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পঙ্কজ শরণ বলেন, বাংলাদেশ চীনের সহযোগিতায় তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করতে চাইলে সেটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। তবে এটি অভিন্ন নদী হওয়ায় ভারতের উদ্বেগের বিষয় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। নতুন চুক্তির আলোচনায় পানি প্রবাহের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি বছর পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠতে পারে।

সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে পঙ্কজ শরণ বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সমস্যার সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা ও বিদ্যমান প্রটোকল মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–কে ভারত কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই সংবেদনশীল। দুই সরকার কীভাবে বিষয়টি পরিচালনা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: যুগান্তর

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণ, ‘আমাদের’ বিরাট পদোন্নতি বলে উচ্ছ্বসিত ড. ইউনূস সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ বরখাস্ত ৬ কর্মকর্তা সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিস্ফোরক মামলার আসামি দুই বছর আগে ক্যান্সারে মারা যাওয়া যুবলীগ নেতা সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণ, ‘আমাদের’ বিরাট পদোন্নতি বলে উচ্ছ্বসিত ড. ইউনূস সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ বরখাস্ত ৬ কর্মকর্তা সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিস্ফোরক মামলার আসামি দুই বছর আগে ক্যান্সারে মারা যাওয়া যুবলীগ নেতা সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে