বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক আনিস আলমগীরের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি আরও চারজনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকার একটি মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক রিহ্যাব মাহামুর বলেন, আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ, যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে সমর্থনের অভিযোগ তুলে ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার না করে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত এসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে দায়বদ্ধতার প্রতি সম্মান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে আনিস আলমগীরকে মুক্তি দিতে হবে।
আদালতে শুনানির সময় আনিস আলমগীর নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করেন এবং গত দুই দশক ধরেই এই কাজ করে আসছেন। কারও কাছে মাথা নত করা তাঁর কাজ নয় বলেও তিনি আদালতকে জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সংশোধনের পর থেকে দলটির প্রতি সমর্থনের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাও রয়েছেন।
অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার সুরক্ষিত ও বিকশিত হয়—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। একটি মানবাধিকারসম্মত সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীনতাগুলো খর্ব করে এমন দমনমূলক আইনপ্রয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।