ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আওয়ামীপন্থী ছয় অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া, আন্দোলনে যেতে বাধা দেওয়া ও হুমকি প্রদান, পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের তথ্য ছাত্রলীগকে সরবরাহের মতো অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে, চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে সুপারিশ পাঠানো হবে। সেখান থেকেই তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযোগের মুখে থাকা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছয় শিক্ষক হলেন অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, অধ্যাপক ড. মাহমুদা খাতুন এবং অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাথমিক তদন্ত কমিটি ছয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ডেকে তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হলে প্রথমে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে সুপারিশ প্রস্তুত করা হয় এবং তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।