বুধবার (২৫ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।
আরাগচি বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন পক্ষ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আমাদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাঠাচ্ছে। তবে একে কোনোভাবেই আলোচনা বা সংলাপ বলা যাবে না। আমরা এসব বার্তার জবাবে কেবল আমাদের নীতিগত অবস্থান ও প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা জানিয়ে দিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। এই সতর্কবার্তার ফলেই ওয়াশিংটন তাদের পূর্বঘোষিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না এবং এই সংঘাতের সূচনাও তারা করেনি। তবে তেহরান এমনভাবে এই সংকটের অবসান চায়, যাতে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তিনি সাধারণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমরা আলোচনা, যুদ্ধ এবং সাময়িক শান্তির সেই পুরোনো দুষ্ট চক্রে ফিরতে চাই না। ইরান নিজের শর্তেই এই যুদ্ধের সমাপ্তি চায়।”
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে আরাগচি জানান, এই জলপথটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আরাগচির বক্তব্যকে ট্রাম্পের ওই দাবির সরাসরি জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।