সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণ নিয়ে
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি
কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডকে একত্র করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন গঠনের যে প্রস্তাব এসেছে,
তাতে বাদ পড়েছে সদর উপজেলার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন এবং বন্দর উপজেলার অন্তর্গত
৫টি ইউনিয়ন। এতে করে এলাকার জনগণের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে এক জোরালো প্রতিক্রিয়া
দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তরুণ ও উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা, মডেল গ্রুপের
চেয়ারম্যান, বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির
মাধ্যমে তিনি জানান, কলমের এক খোঁচায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে ভৌগোলিকভাবে ভাগ করা হলেও
তার হৃদয়ে পুরো নারায়ণগঞ্জ এক ও অভিন্ন।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় এই জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।
আপনারা আমার শক্তি, আপনারাই আমার সাহস।”
মাসুদুজ্জামান মাসুদের মতে, দীর্ঘদিন
ধরে অবহেলিত সাতটি ইউনিয়নের মানুষ আজ নতুন করে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। আলীরটেক,
গোগনগর, মুছাপুর, মদনপুর, বন্দর, ধামগড় ও কলাগাছিয়া এই সাতটি ইউনিয়নেই এখনও
নাগরিক সুবিধা, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত ড্রেনেজ ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক
ঘাটতি রয়েছে। এই ইউনিয়নগুলোতে জনসংখ্যার চাপ থাকলেও রাজনৈতিক এবং উন্নয়ন
কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই সাতটি ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ আমার আপনজন। আমি তাদের দুঃখে, দুর্দশায়,
দুর্যোগে পাশে থেকেছি। থাকব উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে। আমি বিভাজনের রাজনীতিতে
বিশ্বাস করি না, বরং ঐক্যের রাজনীতিতেই আমি আস্থাশীল।”
মাসুদুজ্জামান মাসুদ তাঁর বক্তব্যে
বিএনপির ভেতরে বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “যারা দলের অভ্যন্তরে বিভাজনের রাজনীতি করেন,
তারা মূলত দলের আদর্শ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের
বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির শক্তি দলীয়
ঐক্যে, গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে নয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার রাজনীতি করাই বিএনপির মূলনীতি।
ব্যক্তিগত লোভ কিংবা গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
নির্বাচনী এলাকা পরিবর্তন হলেও
মানুষের সম্পর্ক বা প্রতিনিধিত্বের ধারা পাল্টায় না এমন মনোভাব নিয়েই
মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, “ইলেকশন
কমিশনের সীমা পুনর্নির্ধারণে আসনের কিছু অংশ বাদ পড়লেও আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য
থেকে সরে আসিনি। অতীতের মতোই আমি আপনাদের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব
ইনশাআল্লাহ।”
তিনি মনে করেন, কোনো এক আসনের সীমানা
বদলে গেলেই নেতৃত্ব বদলে যেতে পারে না। তাঁর মতে, নেতৃত্বের ভিত্তি আসনের গণ্ডিতে
নয়, মানুষের বিশ্বাসে।
তিনি বলেন, “আমি এমন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, যেখানে কিছু মানুষ উন্নয়ন থেকে বাদ
পড়ে। আমার রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অধিকার আদায়ের, উন্নয়ন নিশ্চিত করার। কলম
দিয়ে আসন বিভক্ত করা গেলেও মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও ঐক্যকে ভাগ করা যায় না।”
তাঁর দাবি, এই পুনর্নির্ধারণ ভবিষ্যতে
রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনগণের ক্ষোভ বাড়াবে। উন্নয়ন যেখানে সমতা ও সাম্যের
ভিত্তিতে হওয়া উচিত ছিল, সেখানে বিভাজন কার্যত বৈষম্য সৃষ্টি করছে।
মাসুদুজ্জামান মাসুদ তার প্রেস
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানান, “নারায়ণগঞ্জ-৫
আসন থেকে যেসব ইউনিয়ন বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন কখনো ভাববেন না, তারা অবহেলিত।
আমি আপনাদের সন্তান। আপনারাই আমার প্রেরণা, শক্তি ও ভালোবাসা। আমি আপনাদের নিয়েই
এগিয়ে যেতে চাই।”
তিনি নারায়ণগঞ্জের সম্মানিত জনগণকে
ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনারা যে
ভালোবাসা ও আস্থা সবসময় আমার প্রতি রেখেছেন, তা আমার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। আমি
এই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করব। নতুন করে কিছু যোগ না থাকলেও কেউ বাদ পড়েননি আমার
হৃদয় থেকে।”