ইরানে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় নিহত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর প্রধান স্থপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে ইরান একদিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করে, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখে। তার মৃত্যুতে দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
একই দিনে পৃথক হামলায় নিহত হন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি নিহত হন এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হামলার শিকার হয়ে।
খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা নীতির অন্যতম প্রধান কারিগর আলি শামখানিও ওই দিনের হামলায় প্রাণ হারান। তাদের মৃত্যু ইরানের সামরিক সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হামলার ধারা মার্চ মাসেও অব্যাহত থাকে। ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় এক বিমান হামলায় নিহত হন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানি। এ সময় তার ছেলে ও এক সহযোগীও নিহত হন। একই দিনে বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি প্রাণ হারান।
সর্বশেষ ১৮ মার্চ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব। কঠোরপন্থী এই নেতা খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দেশের গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর এত শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির একসঙ্গে মৃত্যু দেশটির ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংকটই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।