ধারাবাহিক হামলায় যেসব শীর্ষ নেতা হারিয়েছে ইরান

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩০
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব শূন্যতা, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন দেশটির  সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় নিহত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর প্রধান স্থপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে ইরান একদিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করে, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখে। তার মৃত্যুতে দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

একই দিনে পৃথক হামলায় নিহত হন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি নিহত হন এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হামলার শিকার হয়ে।

খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা নীতির অন্যতম প্রধান কারিগর আলি শামখানিও ওই দিনের হামলায় প্রাণ হারান। তাদের মৃত্যু ইরানের সামরিক সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হামলার ধারা মার্চ মাসেও অব্যাহত থাকে। ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় এক বিমান হামলায় নিহত হন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানি। এ সময় তার ছেলে ও এক সহযোগীও নিহত হন। একই দিনে বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি প্রাণ হারান।

সর্বশেষ ১৮ মার্চ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব। কঠোরপন্থী এই নেতা খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দেশের গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর এত শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির একসঙ্গে মৃত্যু দেশটির ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংকটই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 
একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আজ সদ্য. হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রীর ছেলে সদ্য. বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি সম্পন্ন: মাহদী আমিন সদ্য. বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের পুলিশ সদর দপ্তরের জরুরি নির্দেশনা সদ্য. জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দিয়েছেন জুবাইদা রহমান সদ্য. যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প সদ্য. নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর হোটেলের সামনে মুখোমুখি বিএনপি-আ. লীগ, পাল্টাপাল্টি স্লোগান সদ্য. ফিলিস্তিনকে ১০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা কানাডার সদ্য. দুপুরের মধ্যে দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আজ সদ্য. হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রীর ছেলে সদ্য. বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি সম্পন্ন: মাহদী আমিন সদ্য. বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের পুলিশ সদর দপ্তরের জরুরি নির্দেশনা সদ্য. জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দিয়েছেন জুবাইদা রহমান সদ্য. যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প সদ্য. নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর হোটেলের সামনে মুখোমুখি বিএনপি-আ. লীগ, পাল্টাপাল্টি স্লোগান সদ্য. ফিলিস্তিনকে ১০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা কানাডার সদ্য. দুপুরের মধ্যে দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা