ইবিতে চায়ের দোকানির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী নেতার বিরুদ্ধে

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩৩
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসসংলগ্ন জিয়া মোড় এলাকার চায়ের দোকানি ববিতা খাতুনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত ও শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্যসচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি ববিতা খাতুনের কান্নাজড়িত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। ভুক্তভোগী ববিতা খাতুন জিয়া মোড়সংলগ্ন শহীদ আনাস হলের সামনে লিচুবাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।

ভিডিওতে ববিতা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “বাঁধন আমার কাছ থেকে দোকান খোলার কথা বলে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সে বলেছিল, ‘খালা, আমি আপনার উপকার করেছি, আপনি আমারও একটু উপকার করেন।’ এরপর টাকা নিয়ে আজ-কাল করে আর ফেরত দেয়নি। ২০ তারিখে টাকা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ২৫ তারিখ পর্যন্ত একটি টাকাও দেয়নি। এমনকি দোকানের ২৩০ টাকার বিলও পরিশোধ করেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ আমার স্বামী বেঁচে থাকলে আমাকে এভাবে কষ্ট করতে হতো না। কোনো কারণে আমার দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন সে দোকান খুলে দিতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু পরে এভাবে ক্ষতি করবে, তা ভাবিনি। আমার দোকানে তো ৫ হাজার টাকার মালও থাকে না। অনেককে জানিয়েছি। তারা বলেছেন, ‘খালা, আমরা তো ওর সঙ্গে পারি না, আপনি প্রক্টর স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের কয়েকজন শিক্ষার্থীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বাঁধনের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। একজন অসহায় দোকানির সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “অভিযোগকারী এখনো আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাঁধনের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এর আগেও কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সেগুলো তদন্ত করে রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে।”

ভুক্তভোগী ববিতা খাতুন বলেন, “ভিডিওতে যা বলেছি, সবই সত্য। আমি আগামীকাল প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেব। এরপর যদি কোনো সুরাহা হয়।”

উল্লেখ্য, বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও হলের আসন নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর আগে এক সহপাঠীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও প্রকাশ্যে আসে। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তার স্বামীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ছিল। এছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির একটি কর্মসূচি শেষে অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার ও বৈদ্যুতিক তার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগেও তিনি আলোচনায় আসেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি নয়, দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: নয়াদিল্লি সদ্য. গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি সদ্য. মানবতাবিরোধী অপরাধে নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড সদ্য. ঢাবির এক হলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রী-শ্যালকের কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান সদ্য. হুতি হামলায় বড় ধাক্কা, ইউরোপে তেল সরবরাহ স্থগিত করল সৌদি আরামকো সদ্য. নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন ভারতে যাইনি?’, ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল সদ্য. পুলিশের আট কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন সদ্য. কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তি যাবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের কাছে সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি নয়, দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: নয়াদিল্লি সদ্য. গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি সদ্য. মানবতাবিরোধী অপরাধে নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড সদ্য. ঢাবির এক হলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রী-শ্যালকের কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান সদ্য. হুতি হামলায় বড় ধাক্কা, ইউরোপে তেল সরবরাহ স্থগিত করল সৌদি আরামকো সদ্য. নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন ভারতে যাইনি?’, ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল সদ্য. পুলিশের আট কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন সদ্য. কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তি যাবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের কাছে