জুলাই বিপ্লবের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জসহ দেশবাসীকে রক্তিম
শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এবং শহীদের প্রতি জুলাই বিপ্লবের প্রথম বর্ষপূর্তিতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। একইসাথে
তিনি এই বিপ্লবে আত্মদানকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
মঙ্গলবারএক বিবৃতিতে রনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের
ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। তাদের সেই আত্মত্যাগের
বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আজকের এই দিন। এই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন
অধ্যায়ের সূচনা করেছে।”
তিনি আরও
বলেন, “জুলাই বিপ্লব কোনো দলের বা গোষ্ঠীর একার অর্জন নয়। এটি দেশের আপামর
জনসাধারণের বিপ্লব। এই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র, মুক্তি এবং স্বৈরশাসনের
অবসান।” রিপন উল্লেখ করেন যে, এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের তরুণ সমাজ নতুন করে
জেগে উঠেছে এবং তাদের এই জাগরণই নতুন রাজনীতির সূচনা করেছে।
বিএনপির এই
নেতা বলেন, “দেশের মানুষ বছরের পর বছর ধরে নিপীড়ন, গ্রেপ্তার, মামলা এবং
নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের মনকে নিয়ন্ত্রণ
করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম সেই মিথ্যাচারে বিশ্বাস করেনি। তারা
সত্যকে উপলব্ধি করে রাজপথে নেমে এসেছিল।”
“বাংলাদেশের ইতিহাস বিপ্লবের ইতিহাস। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৮৫৭
সালের সিপাহী বিদ্রোহ, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, সাঁওতাল
বিদ্রোহ, ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলনেই এই দেশের মানুষ
অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। এই জাতিকে মিথ্যার বয়ানে চিরতরে দমন করা
সম্ভব নয়।”
তিনি আরও
বলেন, “বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা জুলাই বিপ্লবের
চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ
করে যাব।” এ সময় তিনি জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং
তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য,
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তৎকালীন
সরকারের পতন ঘটে, যা পরবর্তীতে “জুলাই বিপ্লব” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই বিপ্লবের
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।