কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সহিদুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন খামার আন্ধারীঝাড় কানিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সহিদুল ওই এলাকার আব্দুল শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল শেখ ও শুক্কুর আলীর মধ্যে প্রায় ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে শুনানির চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে শুক্কুর আলীসহ কয়েকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে হালচাষ করে রোপা আমন রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে সহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনেরা সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে মাছ ধরার সরঞ্জাম কোঁচ দিয়ে সহিদুলকে আঘাত করা হয় বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ও ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ঘটনাস্থলে যান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। আজ সেই বিরোধ থেকে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কাছ থেকে এজাহার পাওয়ার পর আসামির সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। স্থানীয় ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহত সহিদুল ইসলামের মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস