মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচ দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাতে ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর পাল্টা জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তাদের সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দেশটির কয়েকটি কৌশলগত সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরই পাল্টা অভিযান শুরু করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের হামলার পর কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। কাতার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটি।
কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে জর্ডান জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও ওমানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করা হচ্ছে।