প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) এখনো চালু হয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কুকসু)। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর গঠনতন্ত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতায় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হলে কুবিতেও কুকসু চালুর দাবি জোরালো হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কুকসু গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে একটি কমিটি করা হয়। পরে সেপ্টেম্বরে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠনতন্ত্র তৈরির জন্য আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় কমিটিকে অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত বছরের ২৯ অক্টোবর কুকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবিত কাঠামোয় কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি এবং হল সংসদের জন্য ১১টি পদ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়।
খসড়াটি পরবর্তী সময়ে ইউজিসির অনুমোদন পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় সংসদসংক্রান্ত অংশ নিয়ে আলোচনা হলেও হল সংসদের কাঠামো নিয়ে এখনো পর্যালোচনা শেষ হয়নি। ফলে পুরো গঠনতন্ত্রের চূড়ান্ত অনুমোদনও ঝুলে আছে।
গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন জানান, গঠনতন্ত্রের কেন্দ্রীয় অংশ নিয়ে পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে। হল সংসদ নিয়ে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছে, প্রশাসনের উদ্যোগে ধীরগতি থাকার কারণেই কুকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক।
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান অন্তর বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একটি নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার বিষয়টি তুলে ধরেও কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম ভুঁইয়াও দ্রুত কুকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। তার মতে, ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল মালেক আকাশ বলেন, ছাত্র সংসদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন নিয়ে অগ্রগতি হলেও কুবিতে এখনো নির্বাচনের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য, কুকসু গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানান, খসড়া গঠনতন্ত্র ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ নির্ধারিত ধাপ অতিক্রম করবে। এরপর বিষয়টি কীভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং কুকসুর বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানানো হবে।
সব মিলিয়ে, গঠনতন্ত্র তৈরির উদ্যোগ শুরু হলেও হল সংসদ অংশের পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদন শেষ না হওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস