জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৫৪তম আবর্তনের এক ছাত্রীকে বাসে হেনস্তা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ইতিহাস পরিবহনের ১২টি বাস আটক করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত বাসকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে বাসগুলো আটক করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ, গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) ক্যাম্পাস থেকে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি একটি বাসে ওঠেন। তবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাসা থেকে ফোন করে তাঁকে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে বলা হয়। পরে রাস্তা পার হয়ে তিনি ইতিহাস পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন।
ওই ছাত্রী জানান, হেমায়েতপুর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বাসভাড়া ১০ টাকা হলেও বাসের কন্ডাক্টর তাঁর কাছ থেকে ২০ টাকা নেন। পরে নির্ধারিত স্থানে বাস না থামিয়ে তাঁকে চলন্ত বাস থেকে নামতে বলা হয়। এ সময় বাস থামানোর পর নামবেন বলে জানালে কন্ডাক্টর তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ছাত্রী আরও জানান, এ সময় তিনি চিৎকার করলে কন্ডাক্টর আর এগোননি। বাস থেকে নামার পর তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেকজনকে উদ্দেশ করে গালিগালাজ এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, বাসভাড়া নিয়ে গতকাল ইতিহাস পরিবহনের এক হেল্পার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এর প্রতিবাদে আজ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কয়েকটি বাস আটক করে অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা অভিযুক্ত হেল্পারকে শনাক্ত করে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চাওয়া অনুযায়ী, আর্থিক ক্ষতিপূরণ না নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুশোচনা প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু মীমাংসার জন্য সহকারী প্রক্টর জয় ও সহকারী প্রক্টর শায়লা শারমিন সেতুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/ এরআর