জামালপুরের মাদারগঞ্জের নিখোঁজের ১০ ঘন্টা পর সেচপাম্প থেকে রুপসী (১৬) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যাক্তি ঘোনাপাড়া এলাকার ছাইর উদ্দিনের মেয়ে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার ১ নং চরপাকেরদহ এলাকার আব্দুল হান্নান এর সেচপাম্প এর ভিতর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ( মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা ও অফিসার ইনচার্জ স্নেহাশিষ রায় এর নেতৃত্বে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে স্থানীয় আব্দুর রশিদ জানান, ঘোনাপাড়া এলাকায় জমিতে সার বুনতে এসে হান্নানের মোটরচালিত সেচপাম্পের ভিতর নারীর মরদেহ দেখে এক কৃষক। পরে সকালে সেখানে কয়েকজনের সাথে এসে দেখি মোটরচালিত সেচপাম্পে এক নারীর মরদেহ। কয়েকজন চিনতে পেরে বলে এটা ছাইর উদ্দিনের মেয়ে রুপসী। আমি বিষয়টি থানায় অবগত করলে থানা থেকে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
নিহতের বাবা ছাইরউদ্দিন জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৯টা থেকে মেয়ে বাড়ী থেকে নিখোঁজ। আমরা খোঁজাখুজি করেছি, কিন্তু পায়নি। ভাবছিলাম রাগ করে হয়তো কোন আত্মীয়ের বাড়ীতে গিয়ে আছে, আসবেই। সকালে জানতে পারি সেচপাম্প ঘরে আমার মেয়ের মরদেহ। শোনার পরেই আমার পায়ের নিচে মাটি নেই। আমরা বিচার চাই।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ স্নেহাশিস রায় জানান, আমরা সকাল সাড়ে নয়টায় খবর পেয়ে সেখানে সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের নেতৃত্বে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। মেয়েটি আগে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতো।
শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা যায় তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চরপাকেরদহের ঘোনাপাড়া এলাকার মোটরচালিত সেচপাম্প ঘর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা হত্যা। মরদেহ সুরতহাল করে মর্গে পাঠানো হবে। পক্রিয়াধীন আছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জামালপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটা হত্যকান্ড মনে হচ্ছে। মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ এবং ডিবির একাধিক টিম প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িত সকলকে আইনের আইনের আওতায় আনার জন্য কাজও করছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে