ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে সাভারে বিক্ষোভে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকরা। বুধবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর, পদ্মার মোড় ও উলাইলে শ্রমিকদের অবস্থান ও অবরোধে অচল হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।
সকাল ৯টার দিকে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পদ্মার মোড় ও হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তাঁরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন। সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে সড়ক অবরোধ করা হলে দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পদ্মার মোড় ও উলাইলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলের জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেমায়েতপুর এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের প্রভাবে শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন গণমাধ্যমকর্মী।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি আহমাদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টিভির প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন এবং ক্যামেরাপারসন মো. উজ্জ্বল হোসেন। তাঁদের ভাষ্য, শ্রমিকদের বক্তব্য নেওয়ার পর ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণের সময় মাস্ক পরা একদল ব্যক্তি তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে লাঠিসোঁটা ও ইট দিয়ে আঘাত করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে সক্ষম হন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে ১২ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর জানান, তিন দফা দাবিতে শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এজে