ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত নেপাল। দেশটির রাসুয়া জেলায় প্রবল স্রোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ পর্যটক। তাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড।
বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি হতাহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মোদি জানান, কঠিন এই সময়ে ভারতের জনগণ নেপালের মানুষের পাশে রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালের প্রশাসনের সঙ্গে ভারতীয় সংশ্লিষ্ট দলগুলো সমন্বয় করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার সকালে চীন সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। ভোটেকোশী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকায় ভয়াবহ প্লাবন দেখা দেয়। পানির তীব্র স্রোতে বসতবাড়ি, যানবাহন ও একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের কর্মকর্তাদের ধারণা, তিব্বত থেকে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসার কারণেই এই আকস্মিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টি, হিমবাহের পানি জমে থাকা কোনো হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং আকস্মিক পানি নেমে আসার মতো সম্ভাবনাগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটকের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ভারতীয় ছাড়াও বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
বন্যার কারণে রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের ২৬ সদস্য এবং আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত সাতজন সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুর্যোগের পর নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে নেপালি প্রশাসন। ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা দল মাঠে কাজ করছে। উদ্ধারকাজে স্কাউট ও রেড ক্রসের সদস্যদেরও যুক্ত করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় অতিরিক্ত অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসাকর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস