সাগরকন্যা কুয়াকাটায় এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল ও পূজার ছুটিকে ঘিরে সৈকতজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। পর্যটকদের চাপে অধিকাংশ আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। ফলে আগাম বুকিং ছাড়া এসে থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেকে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকেই কুয়াকাটা সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। সমুদ্রের ঢেউয়ে গোসল, সৈকতে খেলাধুলা, ছবি তোলা আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
সৈকতের জিরো পয়েন্টের পাশাপাশি তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুঁটকিপল্লি, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি ও লাল কাঁকড়ার চরেও পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার পাশাপাশি বিচ কার্নিভালের নানা আয়োজন উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
২৩ ও ২৪ অক্টোবরের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সৈকত ও সড়কজুড়ে সাজসজ্জা করা হয়েছে। দুই দিনের আয়োজনে রয়েছে বিচ ফুটবল, ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুঁথিপাঠ, ভলিবল, সেলিব্রিটি বিচ ক্রিকেট, ফ্যাশন শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজি। সংগীত পরিবেশন করবেন আরমান আলিফ, হাসান (আর্ক), ঐশীসহ দেশের পরিচিত শিল্পীরা। পাশাপাশি অংশ নেবেন স্থানীয় শিল্পীরাও।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রায় এক লাখ পর্যটক নিবন্ধন করেছেন। উৎসবের দুই দিনে পর্যটকের সংখ্যা তিন লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটকের এই ঢল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তি নিয়ে এলেও বাড়তি ভাড়া ও পণ্যমূল্য নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন পর্যটকের অভিযোগ, কোথাও চায়ের দাম ১০ টাকা, আবার একটি ডাবের দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। এ ছাড়া ভ্যান ও অটোরিকশার ভাড়া ইচ্ছামতো আদায় এবং কিছু খাবারের দোকান ও আবাসিক হোটেলে অতিরিক্ত বিল নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানান, অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ আগেই বুকিং দেওয়া হয়েছে। পর্যটকের সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হওয়ায় সাময়িকভাবে কক্ষের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে সংগঠনের আওতাভুক্ত হোটেলগুলোতে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্য প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ভাড়া নিলে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।
0কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পৌর প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের সহায়তায় তথ্যকেন্দ্র, মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পর্যটকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অন্যায় আচরণ করা হলে তা বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে বিচ কার্নিভালকে ঘিরে কুয়াকাটায় পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি ফিরেছে। তবে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামলে আবাসন, পরিবহন ও পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সদ্য সংবাদ/এসএস