মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতি জোরদার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সম্ভাব্য এই অভিযানে সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে সক্ষম বিশেষ দল এবং একটি রসদ সহায়তা জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএসের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এসবিএসকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী মোতায়েনের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযানে পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং একটি রসদ সরবরাহকারী জাহাজ যুক্ত হতে পারে।
এর আগে সিউল জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে সম্প্রতি সামরিক মহড়ার পরিধি কমানো এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার অনাগ্রহ নিয়ে দেশটির সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য ঘাঁটি ও অভিযান পরিচালনার স্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেশটির সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, এ ধরনের সামরিক মোতায়েনের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং জাতীয় সংসদের সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর যেকোনো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য এই নৌবাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সদ্য সংবাদ/এসকে