আরব উপসাগরে কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে। একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একাধিক শর্ত তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এসব শর্ত মেনে নেওয়া হলে দুই দিনের মধ্যেই প্রণালিটি খুলে দেওয়া সম্ভব।
কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ‘আল মায়েদা’ নামের এলএনজি ট্যাংকারটিতে অজ্ঞাত কোনো বস্তু আঘাত করে। তবে এ ঘটনায় জাহাজের কোনো ক্রু আহত হননি। সবাই নিরাপদে রয়েছেন। হামলার ফলে পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কাতারি সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ট্যাংকারটি বর্তমানে নিরাপদে রয়েছে এবং সচল আছে। আঘাতের ফলে জাহাজটির কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের শর্তগুলো সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান ও ওমান যৌথভাবে যে নতুন নৌপথ নির্ধারণ করেছে, সেটিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি ওই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য সব রুট বন্ধ রাখার শর্তও রয়েছে।
ইরানের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আগের ঘোষণা পুনর্বহাল করা।
এ ছাড়া বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড়, বিশেষ করে কাতারে জব্দ থাকা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিও তুলেছে তেহরান। একই সঙ্গে সব যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত বন্ধ এবং বিশেষ করে লেবাননে হামলা বন্ধের শর্ত দিয়েছে দেশটি।
আরব উপসাগর, যা পারস্য উপসাগর নামেও পরিচিত, থেকে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের শর্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
সদ্য সংবাদ/এসএস