দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও টেকনোক্র্যাটদের দক্ষতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জাতীয় প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেছেন, দেশের মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে না। এর ফলে দক্ষ ও মেধাবী মানুষের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে।
রিজভী বলেন, দ্রুত উন্নয়ন করা দেশগুলো প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। চীনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষ টেকনোক্র্যাটদের কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশেও মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব যেন যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা কার্যকর হলে দেশের দক্ষ জনশক্তিকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবীদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন রিজভী। চিকিৎসা, প্রযুক্তি, পদার্থবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে গবেষণার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা ও দক্ষ জনবল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত চিন্তা বা মতাদর্শের পরিবর্তে যোগ্যতা, নিয়ম ও নিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন বিএনপির এই নেতা।
কম্পিউটার সায়েন্স, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, কোন ব্যক্তির দক্ষতা কোথায় সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী এবং বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ পেশায় যুক্ত বাংলাদেশিদের দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন রিজভী। এ প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘ট্যালেন্ট পুল’ ধারণার উল্লেখ করেন।
তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের উদাহরণ তুলে ধরে রিজভী বলেন, স্থানীয় অর্থায়ন ও দেশের প্রকৌশলীদের মেধা-দক্ষতা ব্যবহার করে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রকৌশলীদের সক্ষমতার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে প্রায় ৫০টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ বের হচ্ছেন। তাদের দক্ষতা যাতে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আরও বেশি কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান এবং সম্মানজনক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, গ্লোবালাইজেশন ও অফশোরিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য দেশ-বিদেশে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।
দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে জ্ঞান, মেধা, গবেষণা ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও টেকনোক্র্যাটদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মেধাবীদের দেশেই কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে