দেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে এ ধরনের বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের সংখ্যা আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর উত্থাপিত নোটিশের জবাবে এসব তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা ও ইজিবাইক চার্জ দিতে গিয়ে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হচ্ছে। এসব যানবাহনের পেছনে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চার্জিং ব্যবস্থাকে নিয়মের মধ্যে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রী জানান, অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি আবাসিক সংযোগও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিতরণ লাইনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং একই সময়ে বিপুলসংখ্যক যান চার্জ দেওয়ার কারণে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যাচ্ছে।
সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু তার নোটিশে রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচলের বিষয়টি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা চালু থাকলেও নম্বরপ্লেট না থাকায় অনেক অটোরিকশার বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে আইন ভঙ্গের তথ্য সংগ্রহ ও জরিমানার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়। কিন্তু নম্বরবিহীন অটোরিকশার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
রেহানা আক্তার রানু বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে কম খরচে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। তাই একেবারে বন্ধ না করে এসব যানকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক করা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং প্রধান সড়কের পরিবর্তে নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা ও ইজিবাইক শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। কম ভাড়া এবং সহজে পাওয়া যাওয়ার কারণে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে সাধারণ মানুষ এসব যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল।
তবে নিয়ন্ত্রণহীন সম্প্রসারণের কারণে এর নেতিবাচক প্রভাবও বাড়ছে। সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকির পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অনুমোদনহীন চার্জিং কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, অটোরিকশা খাতকে পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে নিবন্ধন, চালকের লাইসেন্স, চলাচলের নির্দিষ্ট এলাকা এবং চার্জিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে যাত্রীসেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সড়ক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।
এদিকে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহনের চলাচল নজরদারির আওতায় আনতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস