পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় চাকরিচ্যুত হওয়া ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে বিজিবিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।
তিনি জানান, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর তৎকালীন বিডিআরের আইন ও বিধি অনুসারে গঠিত বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট এবং প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন ইউনিটের তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়ায় ৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। একই সময়ে আরও ২ হাজার ৫১০ জনকে পেনশন সুবিধাসহ চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে চাকরি হারান ৮ হাজার ৭৯৬ জন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত করার পর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ফলে চাকরিচ্যুত এসব সদস্যকে পুনরায় চাকরিতে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ ছাড়া চাকরিচ্যুত সদস্যদের মধ্যে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। বর্তমানে ওই মামলার আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার বিচারও নিম্ন আদালতে চলমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় আসামি হিসেবে থাকা চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে তাঁদেরও চাকরিতে পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই।
সদ্য সংবাদ/ এআর