রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে মনোরেল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রাথমিকভাবে পাঁচটি সম্ভাব্য রুট চিহ্নিত করে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রস্তাবিত এসব পথের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্য থেকে দুটি রুট চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান জানান, মনোরেল চালু হলে রাজধানীর বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশন থেকে যাত্রীদের গন্তব্যের শেষ অংশে যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করেছে। বর্তমানে বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে তিন মাসের মধ্যে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রুট নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় থাকা পাঁচটি রুটের মধ্যে রয়েছে পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা, মধ্য বাড্ডা-ভুলতা, রামপুরা-ডেমরা, মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার। এসব রুটের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ২৫ দশমিক ২, ১৪ দশমিক ৬, ১০ দশমিক ৩, ১১ দশমিক ৭ ও ১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার।
রুট নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা, জনবসতির ঘনত্ব, যানজটের মাত্রা, গণপরিবহন সুবিধার ঘাটতি, স্টেশন নির্মাণের উপযোগিতা এবং ডিপোর জন্য জমির প্রাপ্যতা বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সুযোগও মূল্যায়ন করা হবে।
ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, মনোরেলকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত রুটগুলো মেট্রোরেল ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে যাত্রীদের চলাচলে নতুন সুবিধা তৈরি হবে।
এদিকে, সমীক্ষা ও দুটি প্রস্তাবিত রুটের বিস্তারিত নকশা তৈরির জন্য সরকারি রাজস্ব বাজেট থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থের আওতায় রুটের অবস্থান, স্টেশন ও ডিপোর সম্ভাব্য স্থান, নির্মাণের কারিগরি উপযোগিতা, যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং পরিচালন ব্যয় পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও পরিবেশগত-সামাজিক প্রভাবও যাচাই করা হবে।
মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার যাত্রী চলাচলের মডেলভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করছে ডিটিসিএ। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বুয়েটের পরামর্শকেরা সম্ভাব্য রুট ও স্টেশন নির্ধারণের কাজ করছেন।
ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীতে সড়কের জায়গা সীমিত হওয়ায় উড়ালপথে চলাচলকারী মনোরেল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী পরিবহনের সামর্থ্য, পরিচালন ব্যয় এবং সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনার পরই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সদ্য সংবাদ/এজে