গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকালে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় জোটের নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন। এ সময় দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ কোনো নির্দিষ্ট দলের দাবি নিয়ে নয়; জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিকে সামনে রেখেই তারা কর্মসূচিতে নেমেছেন।
তিনি বলেন, ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখা, পানির সংকট নিরসন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে তাদের এই কর্মসূচি। তার ভাষ্য, “আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।”
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির দাবি করেন, ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে পক্ষে মত দিয়েছিল। তার অভিযোগ, জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পথসভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, তারা সুশাসন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চান। দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার না হলে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে তারা সতর্ক করে আসছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে গুম-খুনের ঘটনায় নিহতদের বিচারের দাবি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতেও লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার যাতে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে না পারে এবং দুর্নীতি, লুটপাট ও সম্পদ পাচার বন্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি আ স ম ফারুকের সঞ্চালনায় পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে একপর্যায়ে পথসভাস্থলে বড় ধরনের সমাগম হয়।
লংমার্চ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবি তুলে ধরা হয়।
গাজীপুরের কর্মসূচি শেষে লংমার্চটি টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
সদ্য সংবাদ/এসকে