নিকুঞ্জের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪০:৫৮
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর নিকুঞ্জে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবারও দখল ফিরে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি।

সোসাইটির নেতাদের মতে, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত না থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না থাকায় মানুষকে মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষসহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিকুঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ভাসমান দোকান, হকার ও অন্যান্য স্থাপনা ক্রমেই চলাচলের জায়গা সংকুচিত করছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, আবাসিক এলাকার সড়ক এবং খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় এ সমস্যা প্রকট। এসব স্থানে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এর আগে নিকুঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান পরিচালনা করেছে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর নিকুঞ্জ-২-এর ১ নম্বর সড়ক ও খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। চলতি বছরের ২১ জুন নিকুঞ্জ-২-এর ১/এ নম্বর সড়কেও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এসব উদ্যোগে সাময়িকভাবে চলাচলের পরিবেশ উন্নত হলেও পুনর্দখল ঠেকানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি সোসাইটির। তাদের ভাষ্য, উচ্ছেদের পর নিয়মিত তদারকি না থাকায় আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে অনেক স্থান। ফলে একই এলাকায় বারবার অভিযান চালাতে হচ্ছে, অথচ স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি এলাকার সাতটি স্থানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিকুঞ্জ-১-এর ২ নম্বর গেটের বিআরটিসি-সংলগ্ন প্রবেশপথ, নিকুঞ্জ-২-এর ১ নম্বর সড়ক ও বটতলা, পেট্রোবাংলার উত্তর-পশ্চিম পাশের এলাকা, ১/এ নম্বর সড়ক, রাজউকের পেছনের কবি ফররুখ সরণি, নিকুঞ্জ মাঠের চারপাশ এবং ১৩ নম্বর সড়কের মোড় থেকে সিটি হসপিটাল পর্যন্ত এলাকা।

সোসাইটির অভিযোগ, এসব স্থানে দোকানপাট ও হকারদের অবস্থানের কারণে সড়ক ও ফুটপাতের স্বাভাবিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নিকুঞ্জ মাঠের চারপাশে দোকানপাটের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে দখল বাড়তে থাকলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সোসাইটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু স্থানে রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড বা পরিচয় ব্যবহার করে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখলে রাখার ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকির মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

সোসাইটির বক্তব্য, সড়ক ও ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত জায়গা। সেখানে অবৈধ স্থাপনা থাকলে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন, পুনর্দখলের চেষ্টা শনাক্ত করা এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে সিসিটিভি, নিয়মিত টহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও দিয়েছে সোসাইটি।

এদিকে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে আগাম নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিকুঞ্জবাসীরা ওই অবস্থানের কার্যকর বাস্তবায়ন চান।

সোসাইটির দাবি, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এসব জায়গা আবার দখল না হয়, সে জন্য স্থায়ী নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে নিকুঞ্জের পথচারীদের দুর্ভোগ কমবে এবং আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সদ্য সংবাদ/এসএস

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সদ্য. প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ.লীগ ও যুবলীগপন্থী কর্মকর্তারা সদ্য. সাইবার হামলার আশঙ্কা, সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম সদ্য. স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪৬ সদ্য. হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ সদ্য. দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সদ্য. ভোট গণনা যত বাড়ছে, ততই কমছে নেতানিয়াহুর ভোট! সদ্য. প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ৫ সদ্য. রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন সদ্য. গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সদ্য. প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ.লীগ ও যুবলীগপন্থী কর্মকর্তারা সদ্য. সাইবার হামলার আশঙ্কা, সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম সদ্য. স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪৬ সদ্য. হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ সদ্য. দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সদ্য. ভোট গণনা যত বাড়ছে, ততই কমছে নেতানিয়াহুর ভোট! সদ্য. প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ৫ সদ্য. রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন