বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক দশকে যে কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট দিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের পর্যটন, রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা ও হসপিটালিটি খাতে একটি বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ ও আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে অতিথিদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে একাধিক জনপ্রিয় রিসোর্ট।
গাজীপুরের Chuti Resort Gazipur, পূর্বাচলের Chuti Resort Purbachal, পাবাইলের Chuti Resort Pubail এবং মৌলভীবাজারের শমশেরনগরে Chuti Forest Eagle Resort ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে পরিচিত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে।
বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টির বেশি রুম ও কটেজ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এরই মধ্যে ২২ লাখের বেশি অতিথি তাদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক ভ্রমণ, করপোরেট রিট্রিট, সম্মেলন, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিংসহ নানা আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো দেশের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অতিথিদের জন্য রিসোর্টগুলোতে রাখা হয়েছে আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা। কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, ঘোড়ায় চড়া ও ফিশিংয়ের মতো কার্যক্রম পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
তবে শুধু রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নেই ছুটি গ্রুপের কার্যক্রম। বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট বা অবকাশকেন্দ্রভিত্তিক বিনিয়োগ ধারণাকে নতুন মাত্রা দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরি এবং নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই এসব প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
পূর্বাচলে নির্মাণাধীন Chuti Harmony আন্তর্জাতিক মানের একটি পাঁচতারকা রিসোর্ট প্রকল্প। যেখানে ইউনিট মালিকানা, ভাড়া আয় এবং বিশেষ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধার সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক Chuti Beach Resort সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে এগিয়ে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মাণাধীন Saltanat Tea Resort-এ প্রকৃতি ও বিলাসবহুল আতিথেয়তার সমন্বয় ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের মহাসড়কভিত্তিক পর্যটন ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন ও ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষায়িত জীবনযাপনের ধারণা নিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে Anondobari by Chuti। যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শরীরচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও এগিয়েছে ছুটি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের দুই শতাধিক ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে।
পর্যটন খাতের দক্ষ জনবল তৈরিতেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ছুটি গ্রুপ।
এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথনসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। টেকসই উন্নয়ন ও দায়িত্বশীল পর্যটনকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে ছুটি গ্রুপ।
একটি ছোট পরিসরের রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া ছুটি গ্রুপের যাত্রা এখন রূপ নিয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন ইকোসিস্টেমে। নতুন গন্তব্য তৈরি, আধুনিক অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।