রাজধানীর রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্যা’ পলাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার নির্দেশ দেন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান। গোয়েন্দা পুলিশের অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পরিকল্পিত এ হামলায় শুটারসহ মোট ছয়জন অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর গত ৭ মে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন পলাশ। ফিরে এসে তিনি আবারও নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তার এই রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে পলাশের সঙ্গে কয়েকটি গ্রুপের বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে সরিয়ে দিতে একটি ‘কিলিং মিশন’ পরিকল্পনা করা হয়। হামলার আগে জিসানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী এলাকায় রেকি করে পলাশের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে তাদের দেওয়া সংকেতের ভিত্তিতে ভাড়া করা দুই শুটার তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় আরও কয়েকজন সহযোগী আশপাশে ব্যাকআপ টিম হিসেবে অবস্থান করছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পলাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, পলাশের কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা, এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ তাকে প্রতিপক্ষদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এ ঘটনায় জিসানের পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, পলাশ হত্যা চেষ্টা মামলায় ইমাম হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর হামলাকারীদের পালাতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যের আরও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।