স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও কম খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন ও ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প’ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
সভায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। এতে স্থানীয় সরকারের সহকারী পরিচালক কাজী রীমা আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত মীমাংসার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, কার্যক্রম এবং সেবা পাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক মানুষের মধ্যে এখনও পর্যাপ্ত ধারণা নেই। এ কারণে গ্রাম আদালতের সুযোগ কাজে লাগাতে জনসচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কুড়িগ্রামের গ্রাম আদালতগুলোতে সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৯০টি আবেদন করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১৩৮ জন আবেদনকারীর বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা মোট ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার দৌলতুন নেছা।
আলোচনায় গ্রাম আদালতের সেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচার জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের পাশাপাশি গণমাধ্যমকে কাজে লাগানোর বিষয়ে মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উঠে আসে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের জুমার নামাজের পর মসজিদ ও মাদরাসায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে প্রচার চালানোর আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক রনি, বিভিন্ন উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প’ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সহজ করা এবং গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।
সদ্য সংবাদ/এসএস