সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারি জোট যে ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তাদের দাবি, গণভোটের ফল অনুযায়ীই সংবিধান সংস্কার করতে হবে; অন্য কোনো প্রক্রিয়া তারা মানবে না।

বিরোধী জোটের মতে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার নিজেদের ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা করা হলে কার্যত কিছুই করার থাকে না। অতীতেও সংসদীয় কমিটিতে তাদের মতামত গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদের ভিন্নমত গ্রহণ না হলেও পরে সংসদে আলোচনা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

বিরোধী নেতারা মনে করছেন, শুধু প্রক্রিয়াগত বৈধতা দেওয়ার জন্য এমন কমিটিতে যোগ দেওয়ার কোনো অর্থ নেই। তাই তারা রাজপথের কর্মসূচিকেই সমাধানের পথ হিসেবে দেখছেন।

আগামী তেরো জুন থেকে পঁচিশ জুলাই পর্যন্ত ছয়টি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় ঐক্য। গত পনেরো মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আগস্টে ঢাকায় বড় সমাবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে উনত্রিশ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। প্রস্তাব অনুযায়ী সতেরো সদস্যের কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। এতে বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন ও স্বতন্ত্রদের মধ্য থেকে পাঁচজন এবং বিরোধী দল থেকে আরও পাঁচজন সদস্য রাখার কথা ছিল।

সে দিন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে জানান, কমিটি গঠন নিয়ে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা রয়েছে এবং তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিরোধীদের অবস্থান হলো, তারা সংস্কার চায়; কিন্তু সরকার যে পথে সংবিধান সংশোধন করতে চাইছে, তা ভিন্ন।

আইনমন্ত্রী সে সময় বলেছিলেন, বিরোধীদের সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। আগামী সাত জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই কমিটিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সংসদীয় কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দলই সিদ্ধান্ত নেয়। তাই এমন কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন।

এর আগে ২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটিতেও অংশ নেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। ওই কমিটি সংবিধানে একান্নটি সংশোধনের সুপারিশ করে, যার মধ্যে জাতির পিতা সংক্রান্ত বিধান, গণভোট বাতিল, সংশোধন প্রক্রিয়া কঠিন করা এবং সংবিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ শাস্তির প্রস্তাব ছিল। তবে তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের সুপারিশ ছিল না।

পরবর্তীতে আদালতের রায়ের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পরে কমিটির সদস্যদের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে সর্বসম্মতভাবে তা অনুমোদন করা হয়।

এই উদাহরণ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হবে। জামায়াত বা জোটের কোনো পৃথক দাবি নেই; গণভোটের ফল অনুযায়ীই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এজন্য সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে, শুধু কমিটি নয়।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেনও একই অবস্থান জানান। তিনি বলেন, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্টভাবে সংবিধান সংস্কারের পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকার সেটিকে অবৈধ বলছে, যা জনগণের সিদ্ধান্ত অমান্য করার শামিল।

বিরোধী জোট কমিটিতে না থাকলেও সরকার নিজ উদ্যোগে সংবিধান সংশোধন এগিয়ে নিতে পারে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বলেন, সরকার চাইলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা করতে পারে, তবে তার পরিণতি শুভ হবে না।

জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হলেও সংবিধান সংশোধন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তাদের মতে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণই সিদ্ধান্ত দিয়েছে কীভাবে সংবিধান সংস্কার হবে। তা উপেক্ষা করলে তা গণআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল হবে।

জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন জানান, জোটগত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও গণভোটের ফল অনুযায়ীই সংবিধান সংস্কার করতে হবে—এটাই তাদের অবস্থান।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে তৈরি জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান সংশ্লিষ্ট। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, উচ্চকক্ষ গঠন, সাংবিধানিক পদে নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াত ও তাদের জোটভুক্ত দলগুলো গণভোটে অনুমোদিত সনদের সব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সূত্র: সমকাল

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি সদ্য. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান সদ্য. আগে কখনো এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিমানবন্দর দেখিনি; মন্ত্রীকে জানালেন যাত্রীরা সদ্য. সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন সদ্য. আবারও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্পের পরাজয়ের খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সদ্য. দেশব্যাপী জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা সদ্য. রাজধানীতে ফুটপাত উচ্ছেদকালে ঘুষ লেনদেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর সদ্য. সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি সদ্য. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান সদ্য. আগে কখনো এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিমানবন্দর দেখিনি; মন্ত্রীকে জানালেন যাত্রীরা সদ্য. সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন সদ্য. আবারও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্পের পরাজয়ের খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সদ্য. দেশব্যাপী জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা সদ্য. রাজধানীতে ফুটপাত উচ্ছেদকালে ঘুষ লেনদেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর