প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে খুলনা ও বাগেরহাটে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তাঁর মোংলা বন্দর পরিদর্শন, উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং খুলনায় ক্রীড়া আয়োজন উদ্বোধনের কথা রয়েছে। সরকারপ্রধানের এ সফর ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে উন্নয়নের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সফরের প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরে যাবেন। সেখানে বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। এরপর বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনা নগরীকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। বিভিন্ন সড়ক ও দেয়ালে আঁকা হয়েছে গ্রাফিতি। সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, এ সফরের মাধ্যমে অঞ্চলে শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।
এবারের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজনে দেশজুড়ে প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজনটি করা হচ্ছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানান, অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। আয়োজনের বিভিন্ন কাজ সমন্বয়ের জন্য একাধিক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও নতুন কুঁড়িকে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মোংলা বন্দর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন এম. রফিকুল ইসলাম বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করতে নদীর নাব্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, চালনা থেকে হিরন পয়েন্ট পর্যন্ত নদীপথের নাব্যতা ও গতিপ্রকৃতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম চালু থাকলে নৌপথের গভীরতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, মোংলা ও আশপাশের এলাকায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নেওয়া প্রকল্পের উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নিতেই প্রধানমন্ত্রীর এ সফর।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নদী ও চ্যানেলের নাব্যতা সংকটের কারণে বর্তমানে ১০ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ মোংলা বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো কঠিন হচ্ছে। তাই ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথের গভীরতা বাড়ানো এবং স্থায়ী নাব্যতা রক্ষার ব্যবস্থা চান তাঁরা।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো খুলনা সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে নলিয়ান লঞ্চঘাট থেকে নৌপথে মোংলায় যান তিনি। পরিদর্শন করেন মোংলা বন্দরের জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল।
দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর, যোগাযোগ, শিল্প ও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ঘিরে এবারের সফর থেকে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা।
সদ্য সংবাদ/এজে