বেশ কয়েকদিনের টানা তীব্র তাপদাহে যখন অতিষ্ট জনজীবন তখনই জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে নামে একপশলা বৃষ্টি। তবে এই বৃষ্টিতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও নগর জুড়ে সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তির। অল্প একটু বৃষ্টিতেই শহর জুড়ে হাঁটুজল। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে নারায়ণগঞ্জ নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া সহ তার আশে-পাশের এলাকা।শহরের পুরো সড়ক জুড়ে পানিতে ভরপুর। কোন যানবাহন চলার কায়দা নেই। এতে করে যান চলাচলে তীব্র সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে বিপাকে পড়েছে যানবাহন চালকরা।
মঙ্গলবার (২০মে) বিকেলে সরজমিনে গেলে দেখা যায়,শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক পুরোটাই চলে গেছে পানির তলে।এর পাশা-পাশি আশেপাশের এলাকা গুলোতেও থৈ থৈ করছে পানি।মেইন সড়কের অনেকর দোকানে উঠে গেছে পানি।এমতাবস্থায় ব্যবাসায়ীরা পড়েছে বিপাকে।গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কেরর ড্রেন গুলোর পানি নিষ্কাশনের জায়গা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। অথচ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, কাভার্ড ভ্যান, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে।
চাষাড়র সমবায় মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন,একটু বৃষ্টি আসলেই তলিয়ে যায় পুরো সড়ক।আর একটানা দুই/তিনদিন বৃষ্টি হলে দোকান পর্যন্ত চলে আসে সেই পানি।বৃষ্টি আসলে এমনিতেই ক্রেতা পাওয়া যায় এর মধ্যে আবার দোকানে পানি ঢুকলে সর্বনাশ।এতো লক্ষ,লক্ষ টাকা দিয়ে শহরের মার্কেটে দোকান নিয়েছি এখন যদি এমন ভোগান্তি পোহাতে হয় তাহলে আর কি করার।এর চেয়ে রাস্তায় দোকান দেওয়া ভালো ছিলো এখন মনে হচ্ছে।
সড়কে ভাড়ি যানবাহন চলার কারণে অনেক সড়ক ভেঙ্গেচুরে বিশাল গর্তের তৈরি হয়েছে।সেই গর্তগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে ভরে গিয়েছে।এমতাবস্থায় এই সব গর্তগুলো অনুমান করতে না পেরে যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জনাযায়।এর ফলে সড়কে তৈরি হচ্ছে বিশাল যানজট। আর এই যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রিকশা চালক আবুল মিয়া বলেন,ভাঙা সড়কে অসংখ্য গর্ত থাকায় ও সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গতকালক সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অনেক ছোট বড় যানবাহন উল্টে পানিতে পড়ে যায়।আমি নিজেও কয়েকবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলাম।
নগরীর জামতলার এলাকার এক বাসিন্দা দৈনিক সোজা সাপটাকে জানায়,আমি প্রায় বিশ বছর হলো এই এলাকায় বসবাস করছি।দিনে, দিনে এলাকার সব কিছু উন্নত হলেও উন্নত হয়নি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। আর এর ফলে হালকা বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় পুরো জামতলা এলাকা। আমাদের কাউন্সিলর থেকে কোন প্রকার উদ্দ্যেগ এখন পাইনি আমরা আর এই বিষয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরাও কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় বছরের পর বছর এলাকায়র এমন দূর অবস্থা রয়েই যাচ্ছে।
এই বিষয়ে কথা বলতে সওজের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহছান উল্লাহ মজুমদারকে মুঠোফোন করলে তিনি দৈনিক সোজা সাপটাকে জানায়,সড়ক গুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে সড়ক থেকে পানি সরতে পারছে না। দেশের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সড়ক দিয়ে যাতে যানবাহন চলাচল করতে পারে ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা জন্য আমরা খুব দ্রুত কাজ শুরু করবো।