বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছায়ায় কেন ফেরানো হচ্ছে: শেখ হাসিনা

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
ভারতের গণমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন ত্যাগ, পদত্যাগ না করা, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আওয়ামী লীগের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে এমন আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকতেই পারে। তবে স্বাভাবিক সম্পর্ক রক্ষা করা আর পাকিস্তানি ভাবধারায় রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নেওয়া এক বিষয় নয়।

‘এই সময়’-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যে কোনো সম্পর্ক হতে হবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মর্যাদাকে স্বীকার করে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং আত্মসম্মান অক্ষুণ্ন রেখে। তার ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দুর্বল করা, পাকিস্তানপন্থী শক্তিকে পুনর্বাসিত করা, সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রভাব বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের দিকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার মধ্যে একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ কি পাকিস্তানের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনকে তিনি কীভাবে দেখছেন।

জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যারা পাকিস্তানের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতাকে ‘নতুন কূটনীতি’ বলে প্রচার করছেন, তাদের কাছে তার প্রশ্ন  পাকিস্তান কি ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে, যুদ্ধাপরাধের দায় স্বীকার করেছে কিংবা বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতকে সম্মান জানিয়েছে? যদি তা না হয়ে থাকে, তাহলে সামরিক ও কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তার মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা কেবল কূটনৈতিক বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। যারা ১৯৭১-কে ভুলে যায়, তারা বাংলাদেশকে বোঝে না এবং যারা বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের ছায়ায় ফিরিয়ে নিতে চায়, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেছে।

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনের পর অনেকেই জামায়াতে ইসলামীকে ঠেকাতে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, এমন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কি সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে।

এর জবাবে তিনি বলেন, যারা মনে করেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে জামায়াতের তুলনায় ভালো হবে, তারা ইতিহাস ভুলে গিয়েছেন। তার দাবি, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একই রাজনৈতিক ধারার অংশ এবং বিএনপির মাধ্যমেই দেশের রাজনীতিতে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর পুনর্বাসন হয়েছে। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী হিসেবে দুটি দলই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক চেতনার অংশীদার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি মানুষ জামায়াতকে ঠেকাতে বিএনপিকে ভোট দিয়ে থাকে, তাহলে সরকার কেন মৌলবাদী শক্তিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তার অভিযোগ, মাজার ও সুফি দরগায় হামলা হচ্ছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমদিয়া ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। একই সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক, সংস্কৃতি, প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর আঘাত আসছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে তাকে আরও প্রশ্ন করা হয়, বর্তমান বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারত নতুন করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। এর ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে কি না এবং ভারত যদি তাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তিনি কী করবেন।

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং তারা নিজেদের কূটনৈতিক প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তাদের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ থাকা স্বাভাবিক। তার মতে, এর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই, কারণ তার অবস্থান নির্ভর করে বাংলাদেশের জনগণের ওপর।

তিনি আরও বলেন, কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য তিনি ভারত সরকার ও সেদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকারের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করেছেন, কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কখনও আপস করেননি বলেও উল্লেখ করেন।

ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের স্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি হলো বাংলাদেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তার দাবি, যারা এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারতবিরোধী প্রচারণাকে উৎসাহিত করছেন এবং অতীতে ভারতের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের সঙ্গে ভারতের নতুন কোনো সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. ইন্টারপোলের বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি সদ্য. জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সিসিটিভিতে নতুন তথ্য, সেই রাতে তরুণীসহ দেড় ঘণ্টা বারে ছিলেন তাহসিফ সদ্য. সারাদেশের কোমর ভাঙা, সংস্কার করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা সদ্য. এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ সদ্য. তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. যারা চাঁদাবাজি করে তারা প্রত্যেকেই বিএনপির: হাসনাত আবদুল্লাহ সদ্য. জামায়াতের লংমার্চ ফেরত বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত ২০ নেতাকর্মী সদ্য. চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেন পুলিশের ৬ কর্মকর্তা সদ্য. আড়াই বছর পর চাকরি হারালেন ‘ভাতের হোটেলের’ ডিবি হারুন সদ্য. ইন্টারপোলের বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি সদ্য. জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সিসিটিভিতে নতুন তথ্য, সেই রাতে তরুণীসহ দেড় ঘণ্টা বারে ছিলেন তাহসিফ সদ্য. সারাদেশের কোমর ভাঙা, সংস্কার করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা সদ্য. এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ সদ্য. তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. যারা চাঁদাবাজি করে তারা প্রত্যেকেই বিএনপির: হাসনাত আবদুল্লাহ সদ্য. জামায়াতের লংমার্চ ফেরত বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত ২০ নেতাকর্মী সদ্য. চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেন পুলিশের ৬ কর্মকর্তা সদ্য. আড়াই বছর পর চাকরি হারালেন ‘ভাতের হোটেলের’ ডিবি হারুন