প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশ আমূল পরিবর্তিত হবে এবং আর কখনো অপশাসন ফিরে আসবে না। সামনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সূচনা করবে।
আজ সোমবার সকালে সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তাঁর বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং পরে সচিবদের সঙ্গে ছবি তোলেন।
শফিকুল আলম বলেন, আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন যে, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না; সেগুলো ছিল ভুয়া। তবে এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ড. ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় নজিরবিহীন পরিবর্তন আনবে। তিনি জানান, এই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। অতীতে বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থান ও আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও এবার তা আরও মর্যাদাপূর্ণ ও সুসংহত রূপ পাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা নির্বাচনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন–৩৩৩’ চালু করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থার ফলে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন, যা দেশের গণতন্ত্রের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে অনুষ্ঠিত আগের তিনটি নির্বাচনের কোনো বৈধতা ছিল না এবং সে সময় উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকও উপস্থিত ছিলেন না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তেমন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।
সচিবদের ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, গত ১৮ মাসে তাঁরা যে কাজ করেছেন, তা প্রশংসনীয়। প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নে সচিবরা সহযোগিতামূলক ভূমিকা রেখেছেন এবং কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সামনে উত্তরোত্তর উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে কারখানা স্থাপন করবেন। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।