যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মেজ ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি। তবে এখনও তিনি সেখানে যোগদান করেননি। যোগদানের আগে শহীদ হাদির একমাত্র সন্তান ফিরনাস ইবনে ওসমান হাদিকে সঙ্গে নিতে চান তিনি। এ বিষয়ে শহীদ হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, ফিরনাসকে সবাই নিতে চাইবে—এটাই স্বাভাবিক; তবে তার বাবা একজনই, তিনি শহীদ ওসমান হাদি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ফেসবুকে আলাদা আলাদা পোস্টে তারা এ মন্তব্য করেন। তাদের এসব পোস্ট ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, প্রথমে শরীফ ওমর বিন হাদি ফেসবুকে তার ছোট ভাই শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “আমি ওসমান হাদির ভাই—এটা প্রমাণ করার মতো একটা ছবি পেয়েছি। ভাই, তোমরা হাদির যা ছিল সব নিয়ে নাও। এমনকি তার বউকেও নিয়ে নাও, শুধু আমার সন্তানটাকে আমাকে দিয়ে দাও প্লিজ। নিরাপদ বসবাসের জন্য তাকে নিয়ে আমি যুক্তরাজ্যে চলে যাব।”
এরপর ওই পোস্টটি শেয়ার করে শহীদ হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা লেখেন, “মেজ ভাইয়া, ওসমান হাদির বউ কোনো প্রোডাক্ট না যে কেউ চাইলেই নিয়ে নেবে। আর ফিরনাসকে সবাই নিতে চাইবে—এটাই স্বাভাবিক। বাই দ্য ওয়ে, ফিরনাসের বাবা একজনই, তিনি শহীদ ওসমান হাদি।”
এদিকে পরিবারের ভেতরের এই মতবিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানামুখী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ বিষয়টি পারিবারিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার অনেকে সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনস্বার্থে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে ওমর বিন হাদিকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরিফ ওসমান হাদি। ২০ ডিসেম্বর তার জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন।