হোয়াইট হাউসের চাপেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন তুলসী গ্যাবার্ড: রয়টার্সের প্রতিবেদন

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
তুলসী গ্যাবার্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের (ডিএনআই) পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে মতপার্থক্যই শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করছে মার্কিন গণমাধ্যম।

গত ২২ মে ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন। স্বামীর ক্যানসার শনাক্ত হওয়ায় তার পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক চাপের মুখেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

গত বছর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে গ্যাবার্ডকে ঘিরে অস্বস্তি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার অবস্থান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করে বলে জানা যায়। ট্রাম্প চাইছিলেন, গ্যাবার্ড প্রকাশ্যে বলুন যে ইরান দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে তিনি বারবার দাবি করেন, তেহরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়নি।

২০২৫ সালের মার্চে কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তার এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, গ্যাবার্ড কী বলেছেন, তা নিয়ে তার আগ্রহ নেই; তার বিশ্বাস, ইরান খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

এরপর থেকেই জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও পরিকল্পনা থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে রাখা হয় গ্যাবার্ডকে। ইরানসংক্রান্ত একাধিক বৈঠকে তাকে ডাকা হয়নি। এমনকি কংগ্রেসের কিছু গোপন ব্রিফিংয়েও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তুলসী গ্যাবার্ড বরাবরই বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ইরাক যুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তনের মার্কিন নীতির বিরোধিতা করেছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশ মনে করত, এই অবস্থান তাকে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে না।

গত জানুয়ারিতে নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি গোপন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে সেই পরিকল্পনা থেকেও গ্যাবার্ডকে দূরে রাখা হয়। কারণ, বিদেশে সরকার পরিবর্তনের নীতির বিরোধী হিসেবে তার অবস্থান প্রশাসনের কট্টর অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

এ সময় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্টও পদত্যাগ করেন। ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকেই তিনি এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প নিজেকে যুদ্ধবিরোধী নেতা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু করবেন না; বরং চলমান সংঘাত বন্ধ করবেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর কারণে সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক ধরনের অস্বস্তিকর প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। কারণ, তিনি এমন এক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, যা ট্রাম্পের আগের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে মিল থাকলেও বর্তমান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার তথ্যভিত্তিক অবস্থান প্রশাসনের যুদ্ধপন্থী অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র বিশ্লেষক ও মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও একাধিকবার বলেছেন, ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছিল, ইরান খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তুলসী গ্যাবার্ডের সতর্ক ও তথ্যনির্ভর অবস্থান হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যও তাকে পদে টিকিয়ে রাখতে পারেনি বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনে টিকে থাকতে শুধু আনুগত্য নয়, প্রেসিডেন্টের অবস্থানের সঙ্গে নিঃশর্ত একমত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই জায়গাতেই শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়েন তুলসী গ্যাবার্ড।
সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. ‘শুধু সার চেয়েছিল, এখন ঘরছাড়া’, গ্রেপ্তার আতঙ্কে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা সদ্য. গুলশানে নতুন ডিসি, খিলগাঁওয়ে নতুন ওসি পদায়ন সদ্য. ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে হাসপাতালে ৩৫ শিক্ষার্থী সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. ‘শুধু সার চেয়েছিল, এখন ঘরছাড়া’, গ্রেপ্তার আতঙ্কে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা সদ্য. গুলশানে নতুন ডিসি, খিলগাঁওয়ে নতুন ওসি পদায়ন সদ্য. ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে হাসপাতালে ৩৫ শিক্ষার্থী সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ