ইরানের শাহেদ ড্রোনে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন আতঙ্ক, ২০ হাজার ডলার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪০ লাখ ডলার

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৯
ইরানের শাহেদ সিরিজের ‘কামিকাজে’ ড্রোন বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে এক বড় আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন, রাডার এড়িয়ে চলার সক্ষমতা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতার কারণে এই ড্রোনগুলো আধুনিক যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করা সম্ভব।

স্বল্প খরচে বিপুল সংখ্যায় উৎপাদন করা যায় বলেই এসব ড্রোন দিয়ে যেকোনো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলা সম্ভব। শাহেদ-১৩১ ও শাহেদ-১৩৬ সিরিজ মূলত সাধারণ মানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কাজ করে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরান এগুলোকেই প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। শত শত মাইল পথ অতিক্রম করে এসব ড্রোন সামরিক ঘাঁটি, তেল শোধনাগার এবং বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সক্ষম।

এই ড্রোনগুলোর গতি হাইপারসনিক নয় এবং এতে অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তিও নেই। তবে এর প্রধান শক্তি হলো বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করার কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখতে ইরান একসঙ্গে শত শত ড্রোনের ‘ঢেউ’ পাঠায়।

ইরানের কৌশল অনুযায়ী, এসব ‘উড়ন্ত ক্ষেপণাস্ত্র’ প্রথমে প্রতিপক্ষের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত বা অকেজো করে দেয়। এরপর বড় আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়, যাতে সেগুলো সহজে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইতিমধ্যে দুই হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। যদিও মার্কিন প্রযুক্তির প্যাট্রিয়ট বা থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই এসব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রায় ৯০ শতাংশ ড্রোন ভূপাতিত করতে পেরেছে। অন্য কিছু দেশ এই সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত দাবি করেছে।

তবে এসব ড্রোন ধ্বংস করা হলেও ইরানের জন্য এটি অনেক সময় কৌশলগতভাবে লাভজনক হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, প্রায় ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৪০ লাখ ডলার মূল্যের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই ব্যয়বৈষম্য পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

শাহেদ-১৩১ ও ১৩৬ মূলত ছোট ডেল্টা-উইং নকশার ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ ড্রোন। এর পেছনে একটি প্রপেলারচালিত ইঞ্জিন থাকে। ‘শাহেদ’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ সাক্ষী। ২০০০ সালের শুরুর দিকে ইরানের শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ এই ড্রোন তৈরির কাজ শুরু করে।

উৎক্ষেপণের সময় ড্রোনটির সঙ্গে একটি এককালীন রকেট-বুস্টার যুক্ত থাকে। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বুস্টারটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ফোর-সিলিন্ডার পিস্টন ইঞ্জিন চালু হয়। জেট ইঞ্জিনের পরিবর্তে প্রপেলার ব্যবহারের ফলে এর গতি তুলনামূলক কম, ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার।

তবে কম গতির হলেও ড্রোনটি দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং লক্ষ্যবস্তুর ওপর চক্কর দিয়ে পরে ডাইভ করে আঘাত হানতে পারে। এর মাথায় ৬০ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব। ছোট আকৃতির কারণে ইরানের প্রায় যেকোনো স্থান থেকেই এগুলো উৎক্ষেপণ করা যায়।

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে এই ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়া ব্যাপকভাবে শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করছে। তবে ইউক্রেন এদের মোকাবিলায় একটি বিশেষ অ্যান্টি-ড্রোন স্কোয়াড গঠন করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিম এশিয়ায় এই বিশেষ দল মোতায়েনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে অবশ্যই ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে হবে।

শাহেদ ড্রোন সস্তা হলেও বেশ কার্যকর। রাডারে শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় এগুলো প্রতিরোধ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। খুব সহজে উৎক্ষেপণ করা যায় বলে ড্রোনটি ঠিক কোন স্থান থেকে ছোড়া হয়েছে তা নির্ধারণ করাও কঠিন। যদিও উড়ন্ত অবস্থায় পিস্টন ইঞ্জিনের শব্দ থেকে অনেক সময় এর উপস্থিতি বোঝা যায়। রাশিয়া এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করেছে, ফলে রাতের সময়ও ড্রোনগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব এবং রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতাও বেড়েছে।

শাহেদ ড্রোনের সাফল্য আধুনিক যুদ্ধকৌশলেও বড় পরিবর্তন এনেছে। এর প্রভাব দেখে যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের সাশ্রয়ী ও কার্যকর ড্রোন তৈরির পথে এগিয়েছে।

ইরানকে মোকাবিলার নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সংস্করণের একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন মোতায়েন করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এসব ড্রোনকে লুকাস বা লো কস্ট আনক্রিউড কমব্যাট সিস্টেম নামে অভিহিত করেছে। এগুলোও ওয়ান-ওয়ে বা আত্মঘাতী ড্রোন, যা ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি।

একেকটি লুকাস ড্রোন তৈরিতে প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। শাহেদের মতোই এগুলো লক্ষ্যবস্তুর ওপর চক্কর দিয়ে উপযুক্ত মুহূর্তে আঘাত হানতে সক্ষম।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা স্বীকার করে। সে সময় পশ্চিম এশিয়ায় ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ নামে তাদের প্রথম আত্মঘাতী ড্রোন স্কোয়াড্রন চালু করা হয়।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. অবশেষে জারি হলো নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সদ্য. আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সদ্য. আজই হতে পারে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, নতুন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল সদ্য. অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, রোববার কুবিতে প্রথম জানাজা সদ্য. ঢাকার তিন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন সদ্য. অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে আগামীকাল সাধারণ শোক, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছয় মাসের ‘সাফল্য’ তুলে ধরে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট সদ্য. অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে পাঁচ বাহিনী সদ্য. লং মার্চ থেকে ফেরার পথে সিরাজগঞ্জে জামায়াতের সাবেক ইউনিয়ন আমিরকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগে বিএনপি সদ্য. শিক্ষিকার ছেলের হত্যাকাণ্ডে কুবি ছাত্রদলের শোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সদ্য. অবশেষে জারি হলো নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সদ্য. আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সদ্য. আজই হতে পারে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, নতুন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল সদ্য. অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, রোববার কুবিতে প্রথম জানাজা সদ্য. ঢাকার তিন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন সদ্য. অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে আগামীকাল সাধারণ শোক, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছয় মাসের ‘সাফল্য’ তুলে ধরে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট সদ্য. অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে পাঁচ বাহিনী সদ্য. লং মার্চ থেকে ফেরার পথে সিরাজগঞ্জে জামায়াতের সাবেক ইউনিয়ন আমিরকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগে বিএনপি সদ্য. শিক্ষিকার ছেলের হত্যাকাণ্ডে কুবি ছাত্রদলের শোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি