জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এজিবি কলোনিতে তাঁর বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে আটক করে। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
আটকের প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর বুধবার রাত ১১টার দিকে মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি জানায়, হাতিরঝিল থানায় করা মামলায় ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এক্স আইডি হ্যাকের অভিযোগে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। ওই অভিযোগের তদন্তভার ডিবির সাইবার ইউনিটকে দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। পরে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা হলে হাতিরঝিল থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, আটক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস তাঁর কর্মস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এসব ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, তদন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়াতে সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সচিবালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। জিডির তদন্তে ছরওয়ারে আলমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। মামলা হওয়ার পরই গ্রেপ্তার কেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনরত কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে চার্জশিট আদালতে গৃহীত হওয়ার আগে গ্রেপ্তারের জন্য সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। তবে বিশেষ কিছু অপরাধ বা আদালতের নির্দেশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে।
জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় গত শনিবার রাতে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সেখানে কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি ইংরেজি পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন এ পোস্টের প্রতিবাদ জানায়, নারীদের একটি দল ঝাড়ু মিছিল করে।
এ ঘটনার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে আমিরের নামে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও হামলার অভিযোগ করা হয়। পরে জামায়াত জানায়, হ্যাক হওয়া এক্স অ্যাকাউন্টটি দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়ে উদ্বেগ জানায়। বৈঠক শেষে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে বঙ্গভবনের নাম ব্যবহার করে একটি ই-মেইল থেকে ফিশিং মেইল পাঠানোর আলামত পাওয়া গেছে।
ডিবি পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে দেশের বাইরে থেকে হ্যাকিং করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কে বা কোথা থেকে এটি করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।