কুমিল্লায় যাত্রাবিরতির সময় অসাবধানতাবশত হোটেলে ফেলে যাওয়া দুই বছর বয়সী এক শিশুকে প্রায় ৬ ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায়।
জানা যায়, পাকিস্তানের করাচি থেকে ১১ সদস্যের একটি পরিবার বাংলাদেশে ঘুরতে আসে। ঢাকায় একদিন অবস্থানের পর তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে মোস্তফাপুর এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নাশতার জন্য যাত্রাবিরতি নেয় তারা।
নাশতা শেষে দুটি গাড়িতে করে যাত্রা পুনরায় শুরু করলেও ভুলে রেস্তোরাঁয় শিশুটিকে রেখে চলে যায় পরিবারটি। এ সময় একটি গাড়িতে শিশুটির বাবা এবং অন্যটিতে মা ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে উভয়েই মনে করেন শিশুটি অন্যজনের সঙ্গে আছে।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটি প্রথমে কান্নাকাটি করলেও পরে কর্মচারীরা তাকে শান্ত করে মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখিয়ে ও খেলার মাধ্যমে ব্যস্ত রাখে। পাশাপাশি ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জানানো হয়।
পরবর্তীতে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর পরিবারটি বিষয়টি বুঝতে পেরে ফিরে আসে এবং শিশুটিকে নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে তার পুনর্মিলন ঘটে।
রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরিবারটি কয়েকটি গাড়িতে করে এসে সেখানে নাশতা করে এবং সবাই ব্যস্ততার মধ্যে থাকায় শিশুটি গাড়িতে ওঠানো হয়নি।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানাকে অবহিত করা হয়। পরে ফেসবুক পোস্ট ও যোগাযোগের মাধ্যমে পরিবারটি শিশুটির অবস্থান জানতে পারে।
ঘটনার পর শিশুটিকে ফিরে পেয়ে পরিবারটি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটিকে নিরাপদভাবে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারায় তারা স্বস্তি অনুভব করছে।