জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এক শিক্ষকের কক্ষের লকার থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট দীর্ঘ একটি দাঁড়াশ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সাপটি দেখতে পেয়ে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে দ্রুত সেটি উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদুর রহমানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অনন্যা ফারিয়া। তিনি সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে লকার থেকে বের করে নিরাপদে নিয়ে যান।
অনন্যা ফারিয়া জানান, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম ফোন করে অধ্যাপকের কক্ষে সাপ থাকার বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধার করা সাপটি দাঁড়াশ প্রজাতির এবং এটি বিষধর নয় বলে জানান তিনি। সাপটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক সাড়ে পাঁচ ফুট। ফলে এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে। বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের দেখা পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে সাপটিকে মেরে ফেলার পরিবর্তে প্রশিক্ষিত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান অনন্যা ফারিয়া। তাঁর মতে, সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা দাঁড়াশ সাপটিকে দ্রুত তার উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষকের কক্ষ থেকে সাড়ে পাঁচ ফুটের সাপ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। তবে সাপটি নির্বিষ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো আতঙ্ক তৈরি হয়নি।
সদ্য সংবাদ/এসএস