রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মীকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরাফাত নামে অপর এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় গ্রেপ্তার ২৫ আসামিকে শনিবার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক রুহুল আমিন প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি তাদের জামিনের আবেদন জানান।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরাফাতকে শিশু দাবি করে তার বয়স-সংক্রান্ত কাগজপত্র আদালতে দাখিলের জন্য আগামীকাল রোববার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান থানা এলাকায় কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। সেখানে তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় বলে পুলিশের অভিযোগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন।
মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে