জনগণের ন্যায্য অধিকার ও দাবি আদায়ে প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সংসদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের কোথাও কোনো অসংগতি দেখা দিলে জনগণের পক্ষে কথা বলাও তাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষায় বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের যেকোনো অনিয়ম-অসংগতির বিরুদ্ধে তারা কথা বলবেন বলেও জানান জামায়াত আমির।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, কোরআনের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন আইনও সরকার পাস করেছে। পাশাপাশি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। সংসদের ভেতরে বারবার বিষয়গুলো তুলে ধরেও সমাধান না হওয়ায় রাজপথে আন্দোলনে নামতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, ‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’- এমন বক্তব্য দিয়ে তাদের ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট অব্যাহত থাকলে শিল্প উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ অবস্থায় প্রয়োজনে অন্য খাতের ব্যয় কমিয়ে শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। এসব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
দুর্নীতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সরকারের নেওয়া কোনো পরিকল্পনাই কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। জনগণের কাছ থেকেও আগের তুলনায় দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে দেশের অতীত অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় দেশের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছিল। একইসঙ্গে ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ওই সময়ের পর জনগণ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে দাবি করেন শফিকুর রহমান।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। ওই দিনের সহিংসতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ওই ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছিলেন।
সমাবেশে চলমান লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত জনগণের দাবি আদায় হবেই।
সমাবেশে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে দলের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহিদুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সদ্য সংবাদ/এসকে