ঢাকার ধামরাইয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া তিনটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সোহেল (৩০), ইমাম হোসেন শাওন (৩২), মো. সবুজ (২৯) এবং হাবিবুর রহমান ওরফে রনক ওরফে রনি (২৬)। পুলিশের ভাষ্য, সোহেল ডাকাত দলের মূল হোতা।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়নের ছোট কালামপুর এলাকায় বিল্লাল হোসেনের অটোরিকশার গ্যারেজে হানা দেয় একদল ডাকাত। মুখোশ পরা ৮ থেকে ৯ জনের ওই দলটি অস্ত্র দেখিয়ে গ্যারেজের নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্যারেজ থেকে মালামাল নিয়ে যায়।
ডাকাতেরা চারটি ইজিবাইক, ২৭টি ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরার ভিডিও সংরক্ষণের ডিভিআর এবং নগদ টাকা লুট করে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, লুণ্ঠিত সম্পদের মূল্য ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা। পরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
এ ঘটনায় পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী পক্ষ। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওছার সুলতান।
পুলিশ জানায়, ডাকাতির সময় সিসি ক্যামেরার ডিভিআর নিয়ে যাওয়ায় তদন্তে সরাসরি কোনো সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। সেই সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জের দুই এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার এবং কিছু লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ডাকাতেরা ঘটনার আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সিসি ক্যামেরার ডিভিআর নিয়ে গিয়েছিল। তারপরও তদন্ত কর্মকর্তার পরিকল্পিত অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ওসি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস