খুলনার ডুমুরিয়ায় ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় তিনটি জবাই করা ঘোড়ার প্রায় তিন মণ মাংস ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা এ দণ্ডাদেশ দেন। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৯-এর ১৬(ক) ধারায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর পোড়াবাড়ি এলাকার সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্মে অভিযান চালিয়ে পলাশকে আটক করে এসআরবি-৬। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, অভিযান চলাকালে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এসআরবি-৬-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মোহাম্মদ জিহাদ বলেন, একটি চক্র ঘোড়ার মাংসকে গরু বা খাসির মাংস হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় এবং হোটেলে বিক্রি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ অন্তত ১৬টি ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে উদ্ধার করা মাংসের মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি যাচাই করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল কবির জানান, ঘোড়াগুলো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা হয়েছিল। এ ধরনের মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
পরে জব্দ করা মাংস মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার হওয়া জীবিত ঘোড়াটি স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনছুর আলী শেখের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় মাংসের উৎস, নিরাপদ খাদ্য এবং অবৈধভাবে পশু জবাইয়ের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস