বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা দেওয়া স্থগিত করে মার্কিন প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তে বাধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের রায়ে ওই নীতিকে আইনবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিউইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনেট ভার্গাস এ সিদ্ধান্ত দেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা স্থগিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। বিদ্যমান অভিবাসন আইনের কাঠামোর সঙ্গে এমন সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নেই বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন প্রশাসনের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অধিকারকর্মী সংগঠন, ভিসা আবেদনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাদের স্বজনদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো মামলাটিতে যুক্ত ছিল।
আদালতের রায়ের ফলে ভিসা স্থগিত নীতির আওতায় পড়া বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ রয়েছে।
এ ছাড়া লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং বলকান অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও ওই সিদ্ধান্তের আওতায় ছিলেন।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল, এসব দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই যুক্তিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছিল।
তবে আদালত বলেছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে এভাবে ব্যাপকভাবে অভিবাসন ভিসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আদালতের এই রায় গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস