ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে বর্তমানে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সাউথ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনি সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলেও জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ ওই জলপথ ব্যবহার করছে না।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি মানচিত্রেও হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার সর্বশেষ বক্তব্যে বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মন্তব্যটিকে ভুল বলে অভিহিত করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য চলাচল করে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে সম্প্রতি এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজকে বিকল্প রুট বেছে নিতে হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
এদিকে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ জোরদারের কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস