জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। স্বামীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এখন আর বাসায় ফেরার প্রয়োজন বা তাড়া কোনোটিই অনুভব করছেন না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তাধীন একটি মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল-১- এ হাজির করা হয় দীপু মনিসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ১০ আসামিকে।
এদিন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলের সামনে শুনানি চলাকালে কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। অনুমতি পেয়ে তিনি নিজের জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
দীপু মনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ সময় আদালতে নিজের বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। তবে এবার তিনি জামিনের আবেদন আর চালিয়ে যেতে চান না বলে জানান।
নিজের পারিবারিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং জীবনের শেষ সময়ে তিনি স্বামীর পাশে থাকতে পারেননি। কারাগারে থাকায় স্বামীর শেষ দিনগুলোতেও তার সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।
আবেগাপ্লুত দীপু মনি বলেন, ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর পাশে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রয়োজনের সময়ে তাকে কাছে পাওয়া সম্ভব হয়নি। এখন স্বামী মারা যাওয়ায় বাসায় ফেরার প্রয়োজনও ফুরিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সন্তানরা তার জামিন চান। তবে নিজের ক্ষেত্রে বাসায় যাওয়ার কোনো তাড়া নেই।
দীপু মনির বক্তব্যের পর আদালতকক্ষে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জামিনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে মামলার বিভিন্ন দিক এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিতে হয়।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে দীপু মনির জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী। গত ১৮ আগস্ট তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর প্যারোলে ১২ ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।
তবে জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ডিফেন্স আইনজীবীর সম্মতিতে আবেদনটি আপাতত মুলতবি রেখেছে ট্রাইব্যুনাল। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে