দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে প্রায় ৫৫ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য কাজ করছেন। সারাদেশের পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানে তাদের এ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এ সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গাজীপুরের সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত ‘অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক কুচকাওয়াজ ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে দায়িত্ব পালন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
নবীন সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণে ৬৫৪ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।
ফায়ারিংয়ে প্রথম হয়েছেন কুমিল্লার কাজী মো. আবু সাঈদ। ড্রিলে সেরা হয়েছেন নোয়াখালীর মো. ফিজুর রহমান। আর সার্বিকভাবে সেরা প্রশিক্ষণার্থীর পুরস্কার পেয়েছেন খাগড়াছড়ির মো. সাবিকুর রহমান।
কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দাঙ্গা প্রতিরোধবিষয়ক একটি নিরাপত্তা মহড়া প্রদর্শন করা হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন প্রধান অতিথি। পরে ছাদ খোলা জিপে করে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে আনসার ও ভিডিপির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্কের প্রশিক্ষক, বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এজে